আজ ২৬শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১০ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কেইপিজেডের ঢলে আনোয়ারায় সড়ক বিপর্যয়, বিচ্ছিন্ন মেরিন একাডেমি সড়ক, তলিয়ে সিইউএফএল সড়ক

মো. সাইফুল ইসলাম, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)

টানা ভারী বৃষ্টি ও কোরিয়ান ইপিজেড (কেইপিজেড) এলাকা থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। প্রবল পানির চাপে মেরিন একাডেমি সড়কের একটি অংশ ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে সিইউএফএল সড়ক ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বদলপুরা, শাহমীরপুর, বন্দর এলাকা এবং কর্ণফুলী ড্রাইডকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিবৃষ্টির পাশাপাশি চলমান সড়ক উন্নয়নকাজের সময় নির্মাণাধীন কালভার্টে দেওয়া অস্থায়ী বাঁধ সময়মতো অপসারণ না করায় পানি দ্রুত নামতে পারেনি। ফলে কেইপিজেড এলাকা থেকে নেমে আসা প্রবল ঢলের পানি আশপাশের নিম্নাঞ্চল, ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও সড়কে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে।স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. ইলিয়াছ বলেন, চাতরী চৌমুহনী বাজারের পশ্চিম পাশে কালভার্ট নির্মাণকাজের কারণে পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে আশপাশের অনেক বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরতে চরম দুর্ভোগে পড়েন। অনেককে দীর্ঘ পথ হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে এবং বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফিরতে হয়েছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেরিন একাডেমি সড়ক ও সিইউএফএল সড়কের উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাহের অ্যান্ড ব্রাদার্স। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, নির্মাণকাজের সময় যথাযথ পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতও ক্ষয়ক্ষতির অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাহের অ্যান্ড ব্রাদার্সের প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. মুন্না বলেন, “হঠাৎ অতিরিক্ত বৃষ্টির পানির ঢলে মেরিন একাডেমি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা জরুরি ভিত্তিতে মেরামতকাজ শুরু করেছি। যদিও এটি আমাদের কাজের আওতায় পড়ে না, তবুও জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। সিইউএফএল সড়কের কালভার্টের অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে। তবে কালভার্টের পরবর্তী খালের অংশ সংকীর্ণ হওয়ায় পানি দ্রুত নামতে পারেনি।”
কেইপিজেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মুশফিকুর রহমান বলেন, “এবার যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, তা গত ৩৫ বছরের মধ্যে বিরল। মেরিন একাডেমি সড়কে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কালভার্ট নির্মাণকাজ করছিল। সেখানে আমাদের সীমানা প্রাচীরের একটি অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেইপিজেডের বাইরে কোথাও পানি জমে সমস্যা সৃষ্টি হলে তা সরাসরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। তবে ভবিষ্যতে পানি ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করতে আমরা ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছি।”
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার, জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কেইপিজেড, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, শিল্পাঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না হলে প্রতি বর্ষায় একই ধরনের দুর্ভোগে পড়তে হবে সাধারণ মানুষকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর